(বাঙালি বলে কথা! 🙂)
ঘটনা হাসপাতালে। রোগী বেচারার মুখে কোনো রুচি নেই, শরীরে বল নেই। ডাক্তার সাহেব এসে বেশ গম্ভীর মুখে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে একটা নরমাল স্যালাইন ঝুলিয়ে দিয়ে গেলেন।
কিন্তু সমস্যা তো ডাক্তারকে নিয়ে নয়, সমস্যা হলো রোগীর সাথে থাকা অতি-উৎসুক, মহাবিজ্ঞানী স্বজনদের নিয়ে! ডাক্তার স্যালাইন দিয়ে ঘর থেকে বের হতেই তাঁদের মাথায় এক যুগান্তকারী “আইনস্টাইনীয় ভাবনায়” বিজলি চমকে উঠল।
তাঁদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা শুরু হলো এভাবে,
“হুমম… স্যালাইন তো রক্তে যাচ্ছে। মানে ঘুরেফিরে তো পেটেই যাবে! ডাক্তার তো শুধু স্যালাইন দিচ্ছে, কিন্তু রোগী তো মুখে কিচ্ছু খাচ্ছে না। তাই স্যালাইনের সাথে যদি একটু 'ট্যাং'-এর গুঁড়ো গুলে ঝুলিয়ে দেওয়া যায়? আহা! ভিটামিন সি-ও পাবে, শরীরে জোরও আসবে, অরেঞ্জ ফ্লেভারে ডাবল ফায়দা! এক টিকিটে দুই ছবি!”
ব্যস! যেই চিন্তা সেই কাজ! কোনো ধরনের দ্বিধাবোধ ছাড়াই স্যালাইনের বোতলে চালান হয়ে গেল এক চামচ অরেঞ্জ ট্যাং-এর গুঁড়ো! পুরো স্যালাইন তখন একদম রাজকীয় কমলা রঙ ধারণ করে টপ টপ করে রগে ঢুকতে শুরু করেছে।
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার সাহেব ওয়ান ফোর্থ স্পিডে হেঁটে ওয়ার্ডের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। ভালো মানুষ হিসেবে রোগীর স্বজনকে দেখে একটু কুশল বিনিময় করলেন,
-“কী ব্যাপার, স্যালাইন ঠিকঠাক চলছে তো?”
রোগীর স্বজন তখন এক বুক আত্মবিশ্বাস আর বিশাল বিজয়ের হাসি হেসে বললেন, “জি ডাক্তার সাহেব! একদম ফার্স্ট ক্লাস চলছে! তবে আপনার স্যালাইনে তো ভিটামিন কম ছিল, তাই চিন্তা করে স্যালাইনের সাথে একটু অরেঞ্জ ফ্লেভারের 'ট্যাং' মিক্স করে ঝুলিয়ে দিয়েছি! এখন তো বেশ রিল্যাক্সে ডাবল ফায়দা পাচ্ছে!”
কথাটা শুনে ডাক্তার সাহেবের চোখের সামনে যেন এক নিমেষে মহাজাগতিক অন্ধকার নেমে এলো! মাথার রগ চক্কর দিয়ে উঠল, কলিজা শুকিয়ে কাঠ!
-“বলেন কী ভাই?? আপনি রগের ভেতর ট্যাং ঢালছেন?? সরবনাশ!”
ডাক্তার সাহেব আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে, হাতা গুটিয়ে, ১০০ মিটার স্প্রিন্টের গতিতে দৌড়ে গেলেন ওয়ার্ডের দিকে। গিয়ে দেখেন, পন্ডিতেরা সত্যিই ঘটনা ঘটিয়ে বসে আছেন! আর স্যালাইনের স্যাচুরেটেড অরেঞ্জ জুস তখন মানুষের রগের মধ্য দিয়ে ইতিহাস রচনার দিকে এগোচ্ছে!
অজ্ঞতার কাছে বিজ্ঞান যে এভাবে হাতজোড় করে আত্মসমর্পণ করবে, তা মনে হয় স্যালাইনের আবিষ্কারকও
কোনোদিন কল্পনা করতে পারেননি!
Decision IT Firm
👤 ইউজার
১ সপ্তাহ আগে
বাঙালি বলে কথা-
810 ভিউ
2
লাইক
0 কমেন্ট
কমেন্ট (0)